‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’

0
602

বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১২নং রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া জে এস ম্যাধমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট দাখিল করে অবৈধভাবে নিয়োগ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক বরাবরে সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দরখাস্ত করেছেন বর্তমান প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন মাতুব্বর। অবশেষে অভিযোগকারী ওই সোহরাব হোসেন মাতুব্বরকে প্রধান শিক্ষক বানিয়ে নিজের দুর্নীতি ঢাকার অপচেষ্টা করছেন বর্তমান সহকারী প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম।
সূত্র জানায়, সোহরাব হোসেন মাতুব্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরিশাল জেলা দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা, বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসার, বাকেরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা বরাবরও অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছিলেন।
ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য জানান, বর্তমান প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন মাতুব্বর- নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্যই অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন, এখন স্বার্থ হাসিল হয়ে যাওয়ায়- দুর্নীতিবাজ সহকারি প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলামের সাথে আতাঁত করে দুজনে মিলেমিশে দুর্নীতি পাকাপোক্ত করার কৌশল নিয়েছেন।
বর্তমান প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, বোয়ালিয়া জে এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম গাজী এই বিদ্যালয়ে বিধি বহির্ভূতভাবে কর্মরত আছেন। তিনি বাকেরকাঠী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সহকারি শিক্ষক পদে যোগদান করে ২০০২ সালের ৬ মার্চ পর্যন্ত  ৬ বছর ৪ মাস ১৬ দিন চাকুরী করেন। তারপর দিন অর্থাৎ ৭ মার্চ ২০০২ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক (এমপিও বিহীন) পদে নলছিটির চন্দ্রকান্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করে ৮ মার্চ ২০০৬ সাল পর্যন্ত চাকুরী করেন। সেখানে এমপিওভুক্ত না হতে পেরে ২০০৮ সালের ৬ মার্চ বোয়ালিয়া জে এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তার নিয়োগের তথ্য তৎকালিন ম্যানেজিং কমিটির সভপতিও জানতেন না।
চাকুরীকালীন প্রায় ৫ বছর এমপিওভুক্ত না থাকলে বিধিমোতাবেক অভিজ্ঞতা শূণ্যের কোঠায় পৌছায়। বেসকারী শিক্ষক নিয়োগ বিধি নিয়মানুযায়ী তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ যোগ্যতা রাখে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই অভিযোগপত্রে। ততকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কাছেম সিকদার তিনিও এই নিয়োগের বিষয়ে কিছু জানেন না। উক্ত নিয়োগ রেজুলেশনে ততকালিল সভাপতি ও অন্যান্য সদসদের স্বাক্ষর নকল করে ভুয়া রেজুলেশনের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হন। কোন বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই বোলালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ লাভ করেন।
এ অভিযোগপত্র দাখিল পর্যন্তই থেমে নেই অভিভাবক সোহরাব হোসেন মাতুব্বর। তিনি এই অভিযোগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অভিযুক্ত সহকারিপ্রধান শিক্ষকের সাথে যোগসাযোগ করে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে  মিলে যায় যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন অভিভাবকের কাছ থেকে।
কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, সোহবাব হোসেন মাতুব্বর- তৎকালীন ভারপ্রপ্ত প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও- বর্তমানে তিনি নিজে একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হয়ে পরস্পর মিলে গেছেন। বিষয়টি ঠিক যেন ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’।
বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য জানান, বর্তমান প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন মাতুব্বরের নিয়োগে তিনি কোন স্বাক্ষর দেন নি। অন্যান্য সদস্যরা টাকার বিনিময়ে সোহরাব হোসেনের অবৈধ নিয়োগে স্বাক্ষর করেছেন বলেও তার অভিযোগ। সুষ্ঠু তদন্ত হলে বোয়ালিয়া জে এস ম্যাধমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষকের পারস্পরিক দুর্নীতির সকল তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বর্তমান প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন মাতুব্বর বলেন, আমার নিয়োগ প্রক্রিয়া বৈধভাবেই হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here