বাড়ির পথে পটুয়াখালীর রাজিব, শায়িত হবেন বামা-মার পাশে

0
812

দুই বাস প্রতিযোগিতায় প্রাণ হারানো সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের ছাত্র রাজীব হোসেনের (২১) প্রথম নামাজে জানাজা হয়েছে। এখন তার লাশ নেয়া হচ্ছে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে।
আজ মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে জোহর নামাজের পর হাইকোর্ট মসজিদে রাজীবের জানাজা সম্পন্ন হয়।
এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নিয়ে স্বজনরা রাজীবের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের পথে রওনা করেন।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেছেন, মাথায় আঘাতের ফলে রাজীবের মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়, এতেই তিনি মারা যান।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীব মারা যান। এরপর মঙ্গলবার দুপুর ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাজীবের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস জানান, রাজীবের মাথার হাড় ভাঙা ছিল। তার মাথার খুলির নিচে রক্তক্ষরণ দেখা গেছে। এ রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ভাইয়া নেই, কী হবে জানি না: ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে দুই কিশোর। কী করবে, কোথায় যাবে—এমন অনিশ্চয়তায় যেন কাঁদতেও ভুলে গেছে তারা।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গের সামনে পাওয়া যায় রাজীবের এই ছোট দুই ভাইকে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তামিরুল মিল্লাত নামের একটি দাখিল মাদ্রাসায় ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে দুজন। আগেই মারা গেছেন মা-বাবা, এবার হারালেন মাথার ওপর একমাত্র ছায়া ভাইকে।
সপ্তম শ্রেণিতে পড়া মেহেদী হাসান বলল, এখন তো আর ভাইয়া নেই। কী হবে জানি না।
ছোট দুই ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতেন রাজীব। এত কষ্টের মাঝেও দুই কিশোরের আশা, কেউ হয়তো তাদের দায়িত্ব নেবেন।
হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি: রাজীবের প্রাণ হারানোর ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে যাত্রী অধিকার আন্দোলন।
মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রাজীবের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুক ইসলাম, মুখপাত্র মাহমুদুল হাসান শাকুরী, সদস্য মাইন উদ্দিন আরিফ, মনিরুল ইসলাম, মাহফুজ হাসান, এস এম সজীব, বান্না, রাকীব, এনামুল হক, হুমায়ন, আবির, শোয়েব প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here