কলাপাড়া লালুয়া ইউনিয়নে রাস্তা আছে ঠিকই তাতে গাড়িও চলে না, মানুষও হাটে না

0
329

মিলন কর্মকার রাজু , কলাপাড়াঃ রাস্তা ঠিকই আছে কিন্তু তাতে গাড়িও চলে না, মানুষের হাটাচলাও বন্ধ। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের বানাতিপাড়া-চাড়িপাড়া গ্রামের অভ্যন্তরীন সড়ক যোগাযোগের এ দূরাবস্থা গত দুই মাস ধরে চলছে। এ কারনে কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিদিন নৌকা ও ফষলী জমির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
২০০৭ সালে সিডর ও ২০০৯ সালে আয়লার জলোচ্ছাসে লালুয়া ইউনিয়নের চাড়িপাড়া ও নাওয়াপাড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে লালুয়া ইউনিয়নের অভ্যস্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। শুস্ক মেীসুমে মানুষ এবড়ো থেবড়ো রাস্তা দিয়ে পায়ে হেটে কোনরকম চলাচল করে। কিন্তু বর্ষা শুরু হওয়ার পর বাঁধ ভাঙ্গা নদী ও বৃষ্টির পানিতে তাদের নৌকা কিংবা হাটু সমান কাঁদা ও পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে চাড়িপাড়া ও বানাতিপাড়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বানাতিপাড়া থেকে চাড়িপাড়া গ্রামের সংযোগ সড়কটি প্রায় ২-৩ ফুট পানিতে তলিয়ে রয়েছে। সড়কের মধ্য দিয়ে পানি নিস্কাশনের কালভার্ট ভেঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও ফাঁটল। সাঁপের মতো একবেঁকে চলা এ সড়কটির দূরাবস্থার কারনে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে কয়েক বছর ধরে এ তথ্য জানালেন চারিপাড়া গ্রামের রফিক হাওলাদার।
ষাটোর্ধ রিনা বেগম চারিপাড়া গ্রামে এসেছেন ভোট দিতে। গত ২৫ জুলাই চেীধুরীপাড়া গ্রাম থেকে এ চারিপাড়া গ্রামে এসে বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, “সকালে জোয়ারের সময় পানিতে তলাইন্না ছিলো রাস্তা। তহন আইছি নৌকায় । এ্যাহন তো ভাটা। নৌকাও চলবে না, হাটু সমান কাঁদার মধ্য দিয়ে যাইতে হইবে। এই বুড়া বয়সে ক্যামনে যামু। তার ভাষায়-লালুয়ার কোন মা-বাপ নাইতো, হেইয়ার লাইগ্যা সব রাস্তারই এই অবস্।
লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো, মিজানুর রহমান জানান, ইউনয়নের প্রায় ৪০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে। কিন’ কতো কিলোমিটার ভাঙ্গা বা বিধ্বস্ত তার পরিসংখ্যান নেই।
বাংলাবাজার গ্রামের কবির তালুকদার বলেন, লালুয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ জায়গা পায়রা সমুদ্র বন্দরের জন্য অধিগ্রহন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এ কারনে গত পাঁচ বছরে অনেক গ্রামের রাস্তায় এক টুকরো মাটি কিংবা ইট পড়েনি। এ কারনে ভাঙ্গা রাস্তা আরও ভেঙ্গেছে।
চারিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার এই দূরাবস্থার কারনে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রতিদিন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় এখন নেীকায় করে অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে।
লালুয়া ইউনিয়নের নব নির্বাচত চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বিশ্বাস তপন বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর তার প্রথম কাজ হবে এলাকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। চাড়িপাড়া, নাওয়াপাড়া ও চেীধুরীপাড়া গ্রামের মানুষের সীমাহীন দূর্ভোগ স্বচক্ষে দেখেছেন।
কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী আবদুল মান্নান বলেন, রাস্তা উন্নয়নের জন্য তালিকা দেন জনপ্রতিনিধিরা। তারা সেখানে কাজ করেন। এ বছর যে রাস্তা উন্নয়নের তালিকা মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে সেখানে লালুয়া ইউনিয়নের বিধ্বস্ত সড়কের নাম নেই। তবে পায়রা বন্দরের উন্নয়ন কাজ শুরু হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে লালুয়া ইউনিয়নের সকল রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হবে বলে তিঁনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here