২ ডিসেম্বরের সম্মেলনে এ্যাড. সুলতান আহমেদ মৃধাকে সভাপতি হিসেবে চায় তৃণমূল আওয়ামীলীগ

0
110

স্টাফ রিপোর্টার ঃ পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে নানান জল্পনা কল্পনা। এই সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম নেতা, সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌরসভা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এ্যাড. মোঃ সুলতান আহমেদ মৃধাকে সভাপতি হিসেবে পেতে চায় জেলার তৃণমূল আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে এ্যাড. সুলতান আহমেদ মৃধা সবসময় তাদের পাশে থেকে খোজ-খবর রাখেন। এ বিষয়ে তৃণ মূলের কর্মী শহিদুল ইসলাম, ওয়াদুল মোল্লা, নাসির মৃধা, জালাল মৃধা বলেন- এ্যাড. সুলতান আহমেদ মৃধা একজন ত্যাগী নেতা। সে সবসময় আমাদের তুণমূলের কর্মীদের খোজ খবর রাখেন। তিনি সভাপতি হলে পটুয়াখালীতে আওয়ামীলীগ আরও সুসংগঠিত হবে।

এ বিষয়ে এ্যাড. সুলতান আহমেদ মৃধা বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আদর্শে এবং তার স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছি। আমি ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। আমি ১৯৭৩ সনে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাহিত্য ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হই। ১৯৭৬ সনে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে এম এ অধ্যায়নরত সময় হাজী মোহাম্মদ মহসীন হলে থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। ১৯৯৩ সানে বিএনপির আমলে পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হই। এরপর দুই বার আমাকে পৌরসভায় মনোনয়ন দেওয়া হয় কিন্তু আমার জয় নিশ্চিত জেনে বিরোধী দল সীল পিটিয়ে আমাকে পরাজিত করে। ১৯৯৪ সনে আমি পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরি কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে কার্যকরি কমিটির ২নং সদস্য হিসেবে আছি। ২০০৫ সালে আমার বড় ছেলে শহীদ মাহমুদুর রহমান পলাশ (জেলা ছাত্র লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) যুবলীগের সম্মেলনে সাধারন সম্পাদক পদ প্রার্থী হয়ে ভোট চাইতে গিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. শাহজাহান মিয়া এমপি এর বাসার সামনে বিরোধী দলীয় শত্রæদের হাতে আহত হয়ে ৫দিনের মাথায় মারা যায়। ছেলে হারিয়েও আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতি আক্রে ধরে আজও আওয়ামীলীগের সাথে আছি। ২০০৮ সালে পটুয়াখালী-১ আসন থেকে আমি এমপি মনোনয়ন চেয়েছিলাম এবং মনোনয়নের তালিকায় দুই নম্বরেও ছিলাম তখন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. শাহজাহান মিয়াকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। ২০০৯ সালে সদর উপজেলা নির্বাচনে নেত্রীর আশ্বাসে নির্বাচন করে আমি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক প্রয়াত খান মোশারফ হোসেনকে বিপুল ভোট হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। পটুয়াখালীতে আমি ভোটের রাজনীতির দিক থেকে অনেকের চেয়ে এগিয়ে আছি। ২০১৪ সালে আমি পটুয়াখালী-১ আসন থেকে এমপি মনোনয়ন চেয়েছি কিন্তু নেত্রী বিবেচনা করে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহজাহন মিয়া এমপিকে মনোনয়ন দেন পরে জাতীয় পার্টির সাথে সমন্বয় করতে তাকে বসিয়ে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে মনোনয়ন দেন। ঐ সময় নেত্রী আমার সহধর্মীনি মিসেস লুৎফুন নেছাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি নির্বাচিত করেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান মোশারফ হোসেনের মৃত্যুর পরে জেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম তখন নেত্রী বলেছিলেন মাঠে কাজ কর পরে দেখা যাবে। ২০১৯ সালেও আমি পটুয়াখালী-১ আসন থেকে পুনঃরায় মনোনয়ন চাই তখন নেত্রী সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী এ্যাড. শাহজাহান মিয়াকে মনোনয়ন দেন এবং আমাকে বলেছিলেন মাঠে কাজ করো পরে দেখা যাবে। আওয়ামীলীগের যে সকল নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়ে না পেলেও নৌকার জয়ের জন্য আমি এবং আমার পরিবার সর্বদা কাজ করেছি। বর্তমানে আমি দলের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে নাই। আমি আপনার এবং আপনার পিতার আদর্শে আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের স্বচ্ছ রাজনীতি করে যেতে চাই। ১৯৯৮ সালে যখন আপনি পটুয়াখালীর পিডিএস মাঠে জনসভা করেছিলেন তখন আমি পৌরসভা চেয়ারম্যান ছিলাম। তখন আমি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক প্রয়াত খান খান মোশারফ হোসেন উক্ত জনসভাকে সফল ও সার্থক করতে বিপুল জনসমগমের ব্যবস্থা করেছিলাম। পটুয়াখালীতে আমি আপনার একজন একনিষ্ঠ ও পরিশ্রমী কর্মী হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। আমি অন্যায়ের সাথে কখনো আপষ করি না এবং সোজা কথা বলতে পছন্দ করি। তৃণমূলের যে কোন নেতা-কর্মী আমাকে যে কোন সময় ফোন করলে পায়। সকলের জন্য আমার ফোন সব সময় খোলা থাকে। আমি সকলের সাথে সবসময় যোগাযোগ রাখি এবং সকলের বিপদে আপদে আমার সাদ্য মতো সাহায্য করার চেষ্টা করি। এই জন্য জনগণ যে কোন নির্বাচনে আমাকে বিপুল পরিমান ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে। তৃণমূল যদি চায় আমিও চাই বাকীটা নেত্রীর ইচ্ছা। আমি কোন সময় নেত্রীর কথার অবাধ্য হই নাই।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here